SunSep242017

এক-এগারো’র প্রধান বেনিশিয়ারী শেখ হাসিনার খোয়াব

  • PDF
Change font size:

 


মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন,USA

‘‘যারা মাইনাস টু ফরমুলা প্রবর্তন করতে চেয়েছিল, তারা এখনও সক্রিয়। মাঝে মাঝেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাচ্ছে” প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের চতুর্থবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে প্রদত্ত ভাষণে দেশবাসীকে এমন খবর দিয়েছেন। কিন্তু ‘‘মাঝে মাঝেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাচ্ছে” - এমনসব লোক কারা কি তাদের পরিচয় শেখ হাসিনা তা প্রকাশ করেন নি। শেখ হাসিনার এমন কথা শুনে অনেকেই মনে করেন, তিনি মাঝে মাঝে তারই একান্ত সহযোগী ১/১১’এর কুশিলবদের ভূত খোয়াবে দেখেন। বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণা রাখেন সারা পৃথিবীর এমন সচেতন ব্যক্তিবর্গই জানেন বেসামরিক কুশিলবদের মধ্যে শেখ হাসিনাই হচ্ছেন ১/১১’র প্রধান অনুঘটক। তিনি সে কাহিনী ভুলে যাবার ভান করলেও দেশবাসীসহ পুরো বিশ্বের সচেতন মানুষ জানেন মাইনাস টু’র ধ্বজাধারীদের জরুরী অবস্থা ঘোষণার পরিবেশ কারা সৃষ্টি করেছিল?

এ কারণে ১/১১’এর অনুঘটকরদের ব্যাপারে শেখ হাসিনার হুশিয়ারি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থানরত তথ্যাভিজ্ঞমহলের কাছে নির্মম কৌতুক ও হাস্যকর মনে হয়েছে। তাদের মতে শেখ হাসিনা নিজেই ১/১১’এর কেবল অন্যতম অনুঘটকই নন, তিনি একাধারে এর এর প্রধান কারিগর, ত্বরান্বয়কারী, সর্বোপরি প্রধান বেনিফিশিারী। অবরোধ, অবস্থান ধর্মঘট, অগ্নিসংযোগসহ সম্পদ ও জীবনহানি, সর্বোপরি, শেখ হাসিনার আহ্বানে লগিবৈঠাধারী ঘাতকদের উপর্যুপরি আঘাতে রাজধানীর পুরানা পল্টনে প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা ১/১১ আসার পথকে সুগম ও অপরিহার্য করে তুলেছিল। 

শেখ হাসিনার মূল কৌশল হলো অতীতে তিনি কিংবা তার সরকার ও দল যে সব গণবিরোধী অপকর্ম করেছে, সেগুলোর দায়-দায়িত্ব স্বীকার না করে বিরোধীদলের ওপর চাপিয়ে দেয়া। বাংলাদেশের মানুষ অতি দ্রুত শাসকশ্রেণীর অন্যায়-অপকর্ম ভুলে যান, তাদেরকে বারবার ক্ষমা করেন। এটা আমাদের দেশের সহজ-সরল মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। তাদের এ মহৎ গুণকে ব্যবহার করে প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে দেশী-বিদেশী শাসকরা তাদের শাসন ও শোষণ করেছে। তারা তাদের স্বাধীনতা ও অধিকার, এমনকি ন্যায়-বিচার তারা কখনোই তারা ভোগ করতে পারেন নি। কিন্তু নিকট অতীতে শেখ হাসিনার ঘটানো কাহিনী দেশবাসী এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেছে, এমনটি মনে করা যথার্থ নয়।

শেখ হাসিনার বক্তব্য শুনে দেশবাসী না হেসে পারেন না। তারা তাজ্জব হয়ে যায়, শেখ হাসিনা নিজের রং কিভাবে এমন লুকাতে সচেষ্ট হন। বাংলা ভাষায় এ ধরনের লোকদের চিহ্নিত করতে বহুল ব্যবহৃত একটা শব্দ আছে। শব্দটি নিন্দার্থে ব্যবহৃত হয় বলে এখানে তা উল্লেখ করছি না। তিনি কি বাংলাদেশের সব মানুষকে আত্মভোলা মনে করেন? এক এগারো’র অনুঘটক কারা, দেশবাসী মাত্র ছয় বছরে তা ভুলে যায় নি।

এ সব অনুঘটকদের তালিকা প্র¯ত্তত করতে বলা হলে শেখ হাসিনার নাম যদি সর্বাগ্রে থাকে তাহলে অবাক হবার কিছুই থাকবে না। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪-দলীয় জোট সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত নির্বাচন কমিশনার’কে কারা মেনে নেয় নি? কাদের ধমকে ও ভয়ে তৎকালীন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিসহ তার পূর্বসূরদের কেউই শাসনতন্ত্র মোতাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণে রাজি হন নি? শাসনতন্ত্র মোতাবেক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিদের কোন একজনকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মেনে নিলে ইয়াজ উদ্দিন প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেয়ার সুযোগ পেতেন না। ইয়াজ উদ্দিন প্রধান উপদেষ্টার পদ নেয়ার পর কারা দেশকে অচল করেছিল? কারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়? কারা সকালে নাস্তা, দুপুরে এবং রাতে বিরিয়ানী পরিবেশন করে ও নগদ অর্থ দিয়ে রাস্তায় ভাড়াটে লোক জমা করে রাস্তা অবরোধ করে সারাদেশ অচল করে দিয়ে বেসামরিক সরকার যে দেশ চালাতে অক্ষম তা প্রমাণ করে সেনা হস্তক্ষেপের পরিবেশ তৈরি করে? কারা বঙ্গভবনকে ‘কাসিম বাজার কুটি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে উহার গ্যাস, পানি ও বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেয়? কারা সারাদেশ থেকে লগি-বৈঠা নিয়ে ঢাকায় আসার জন্য দলীয় ক্যাডার-কর্মীদের আমন্ত্রণ জানায় যার ফলশ্র“তিতে পুরানা পল্টন মোড়ে লগি-বৈঠাধারী ঘাতকরা প্রকাশ্যে অকারণে মানুষ মেরে মৃতদেহের ওপর নৃত্য পরিবেশন করে?

কোন নেতা/নেত্রী বঙ্গভবনে ফখরউদ্দীনদের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অভূতপূর্ব খোশ-মেজাজে হাসি-তামাশায় ছিলেন? কে বলেছিলেন, এ সরকার আমাদের আন্দোলনের ফসল? কারা দলীয় নেতা-কর্মীদের সাবধান করেছিলেন, এ সরকারের ব্যর্থতা মানে আমাদের ব্যর্থতা? কারা ঐ সরকারকে সর্বপ্রকাশ সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস জানায়? কারা বলেছিলেন ১/১১’এর পরবর্তী সরকারের সবকিছু তারা সরকারে গেলে মেনে নেবেন? এর প্রধান বেনিফিশারী কারা? কারা ব্রিটিশ ও আমেরিকান কূটনীতিকদেরকে বলেছিলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের পরিবর্তে সেনাবাহিনী এসে সবকিছু ঠিক করে দিলে তাদের আপত্তি থাকবে না?

দেশে কতো ধরনের বিচার হয়েছে, হচ্ছে। কতোজনের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যে অভিযোগে মামলার পর মামলা দায়ের করা হচ্ছে। অথচ ১/১১’এর সাথে জড়িত মূল হোতাদের কারোর বিরুদ্ধেই শেখ হাসিনা সরকার কোন ব্যবস্থা নেয় নি। ওরা সবাই মুক্ত। কারণ তাদের সাথে সেভাবেই সমঝোতা হয়েছিল। শাস্তির পরিবর্তে তাদের কাউকে কাউকে কূটনীতিক দায়িত্ব দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। একজনের চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে, এখনো তিনি ঐ দায়িত্বে আছেন। ওয়াশিংটন বাংলাদেশ মিশনে সামরিক এ্যাটাশে হিসেবে কর্মরত ঐ সময়কার বিগ্রেডিয়ার পর্যায়ের একজন কথা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার সাথে তাদের সমঝোতার কথা স্বীকার করেছেন। তার ভাষায় মাইনাস টু ফর্মূলা ব্যর্থ হবার প্রেক্ষিতে ১/১১’এর সাথে সেনাবাহিনীর জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না ঐ সময়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থার একটি শাখার জনৈক পরিচালককে এমন প্রতিশুতি আদায়ের জন্য দুই নেত্রীর সাথে যোগাযোগ করার দায়িত্ব দেয়া হয়। বর্তমানে নিউ ইয়র্কে অবস্থানকারী ঐ বিগ্রেডিয়ার জানান বেগম জিয়ার কাছে ঐ প্রস্তাব রাখা হলে তিনি সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করেন। প্রত্যাখ্যাত হয়ে পরিচালক শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করলে তিনি তাকে ক্ষমতায় আনার বিনিময়ে সেনাকর্মকর্তাদের বিচারের সম্মুখীন না করার প্রতিশ্র“তি দেন । সে সমঝোতার আলোকেই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসে এবং ১/১১’এর সবাই নিরাপদে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল প্রকাশ্যে বলেছেন ডিজিএফআই’এর হাত ধরেই ২০০৮’এর নির্বাচনে আওয়ামী ক্ষমতায় যেতে সক্ষম হয়েছে।

এখন ১/১১’এর সাথে জড়িতরা নড়াচড়া করছেন, এমন বক্তব্যের ভিত্তি কোথায়? প্রধানমন্ত্রী নিজেও তো ঐ ঘটনার পরিবেশ সৃষ্টিকারীদের মধ্যে একজন। বেগম জিয়া তো ১/১১ কোনভাবেই চান নি। আর তার দল তো রাজপথ, সকড়. অফিস আদালত বন্ধ করে কিংবা লগি-বৈঠার তাণ্ডব দেখিয়ে সারাদেশে ভীতজনক ও অনিশ্চিত অবস্থা সৃষ্ট্ িকরেন নি। কিংবা সড়ক বন্ধ করে মমতাজ মার্কা গায়িকাদের দিয়ে গান গাওয়ার ব্যবস্থা করে অংশগ্রহণকারীদের রাজপথে ধরে রাখার ব্যবস্থা করেন নি। আর সে কারণেই মমতাজ জাতীয় সংসদে আইন-প্রণেতা হবার সুযোগ পেয়েছেন। সুতরাং রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎকালীন আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনাই হলেন ১/১১’ তথা জরুরী অবস্থা ঘোষণার পরিবেশ সৃষ্টির মূল রূপকার। এখন তিনিই ১/১১’এর ভয়ে কম্পিত । দেশবাসীকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। 

ব্যাপারটা বুঝা কঠিন। কারণ যে পরিবেশে ১/১১ এসেছিল শেখ হাসিনা সরকার দেশে তার চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করেছেন। যেখানে সেখানে মানুষ খুন হচ্ছে, নিখোঁজ হচ্ছে। শেখ হাসিনার ক্ষমতার দেশীয় উৎস ছাত্রলীগ ক্যাডাররা প্রকাশ্যে নিরাপরাধ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তবে পার্থক্য এখানে যে, ক্যাডাররা সরাসরি চিহ্নিত এসব লগি-বৈঠার পরিবর্তে লোহার রড এবং কিরিছ ব্যবহার করেছে এবং ২/৩ জনের পরিবর্তে ৮/৯ জনে এ মহান দুষ্কর্ম সম্পন্ন করেছে। এ ক্যাডারদের হাতে পুলিশ থেকে শুরু করে সরকারী কর্মকর্তারা চড়্-থাপ্পড় খায়। তারা মার খেয়ে শোকে ক্ষোভে অপমানে একাকার হয়ে কাঁদতে কাঁদতে কর্মস্থল ত্যাগ করে। দলীয় খুনিরা ক্ষমা পেয়ে যায়, তারা বিচারপতি হয়। বিকাশের মতো সন্ত্রাসীরা কারাগার থেকে ছাড়া পায়, আর ফখরুলদের মতো সৎসজ্জন রাজনীতিকরা, মাহমুদুর রহমানের মতো সাহসী ও সৎ সাংবাদিকরা জেলে ঢোকে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি কারোরই জীবন মান-ইজ্জত-সম্পদ এখন আর নিরাপদ নয়। মানুষ আশ্রয় নেবে এমন কোন স্থান এখন আর বাংলাদেশে নেই। পুলিশ বিভাগ, জনপ্রশাসন, এমনকি বিচারবিভাগের অনেকেই শেখ হাসিনার কাছে দায়বদ্ধ। তারা নাকি শেখ হাসিনার মন-মর্জ্জি মতো তাদের দায়িত্ব পালন করেন। এমন শ্বাসরুদ্ধকর অনিশ্চিত পরিবেশই হলো ১/১১’র পুনরাগমনের পূর্বাভাষ। শেখ হাসিনা বুঝেন ইয়াজউদ্দিনের সময়ে তিনি যা খটিয়েছেন, দেশের অবস্থা এখন তার চেয়ে অনেক শোচনীয়। শেখ হাসিনা নিজে অবশ্যই বুঝেন তিনি এবং তার অনুসারীরা দেশকে কোথায় নিয়ে গেছেন, এবং এমন অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। তাই ১/১১ আবার আসতে পারে এমন ভাবনা তিনি মন থেকে মুছে ফেলতে পারছেন না।

সামনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে যাচ্ছে, তাতেও ১/১১ না হলেও গণঅভ্যুত্থান হবার সম্ভবনাকে পর্যবেক্ষরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তাদের মতে, শেখ হাসিনা মনে করেন খালেদা জিয়াসহ বিরোধী মতের লোকদের গণহারে গ্রেফতার ও নির্মমতা অবলম্বন করে তিনি (এরশাদও মূলতঃ তারই লোক) এককভাবে নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাবেন। আর বেশি সমস্যা দেখা দিলে প্রতিবেশীর সাহায্য চাইবেন, যারা তেমন প্রতিশ্র“তি ইতোমধ্যেই তাকে দিয়ে রেখেছে (শেখ হাসিনাকে বিব্রত করা হলে ভারত চুপচাপ বসে থাকবে না - প্রণব মুখার্জি)।

পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এসব কারণে শেখ হাসিনা বেপরোয়া। শত অন্যায় ব্যর্থতার পরেও শেখ হাসিনা নিজেকে শক্তিমান মনে করেন। দেশের মানুষ তাকে নিয়ে কী ভাবেন তা’ নিয়ে শেখ হাসিনার মোটেই কোন ভাবনা নেই। যেকোন ধরনের একটা নির্বাচন হলেই হলো। নির্বাচন স্বচ্ছ হবে। কিন্তু নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্ধিতা করবে, তাদের সবাই হবেন তার দলের কিংবা ভারতীয় তাবেদার (বিএনপি’র ভারতীয় লবির সুবিধাবাদীরাও এদের মধ্যে থাকবেন)। 

এ ধরনের একটা নীল-নকশা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। কারণ ভারত ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে: ভারত গত চার বছরে যা অর্জন করেছে সেগুলো ধরে রাখতে হলে শেখ হাসিনাকে পরবর্তী ৫ বছরের জন্য ক্ষমতায় রাখতে হবে। তা’হলে বাকি সুবিধাগুলো আদায় করে বাংলাদেশকে পুরো তাবেদার ও ছায়ারাষ্ট্রে পরিণত করা যাবে। সে ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি এবং শেখ রেহানা কিংবা জয়কে প্রধানমন্ত্রী করে গণতান্ত্রিক রাজতন্ত্রের একটা নজির দেশে সৃষ্টি হতে পারে। 
তবে পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন কীভাবে দাবি আদায় করতে হয়, সে নজির তথা পন্থা তো শেখ হাসিনাই বিরোধীদলকে শিখিয়ে দিয়েছেন। শেখ হাসিনারা যে প্রক্রিয়ায় নিজেরা মঞ্চ তৈরি করে তাকে ‘জনতার মঞ্চ’ হিসেবে প্রচার করেছেন, অবরোধ, আগুন, খুন-জখম করেছেন। এসবই ছিল আইনবিরোধী। আইনভঙ্গের জন্য কোন তাদের বিচার হয় নি। অর্থাৎ সেগুলো অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় নি? পর্যবেক্ষকদের মতে বিএনপি জোট এখন শেখ হাসিনার দেখিয়ে দেয়া পথে হাঁটবে । শেখ হাসিনা ব্রিটিশ-আমেরিকান দূতদের বলেছেন, সেনাবাহিনী এসে সবকিছু ঠিক করে দিলে অর্থাৎ তাকে ক্ষমতায় যাবার ব্যবস্থা করলে তাদের আগমনে তার আপত্তি নেই। ১/১১’এর সেনাবাহিনীর কিছু লোক সে কাজটিই করে গেছেন।

কিন্তু বর্তমান বিরোধী দল সে ধরনের কাজে লিপ্ত হবার ক্ষমতা ও সাহস রাখে না। জনগণ শেখ হাসিনার সাথে নেই - এ কথা ধরে নিলেও বর্তমান দুঃসহ পরিস্থিতিকে ব্যবহার করার মতো সুদৃঢ় সংগঠন ও ত্যাগী নেতৃত্ব বিএনপিতে নেই। সেখানে নন্দলালদের আধিক্য। জনগণ শেক হাসিনার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে এমনিতেই বিএনপি’কে বসিয়ে দেবে - এমন একটা ভাবনা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দের মধ্যে কাজ করছে। এমন মানসিকতা শেখ হাসিনার প্লাস পয়েন্ট। পরবর্তী নির্বাচনে তাকে ঠেকানোর ক্ষমতা বিএনপি জোট রাখে না।

কিন্তু তারপরেও শেখ হাসিনা তেমন কিছুর সন্দেহ করছেন। আর সে সন্দেহ থেকে তিনি বলছেন মাইনাস টু’র হোতারা নাকি মাঝে মাঝে মাথাচাড়া দিতে চায়। শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীতে আবার কোন শুদ্ধি অভিযান চালাতে চান বলেই এমন আগাম সন্দেহ প্রচার করছেন । পর্যবেক্ষকদের ধারণা সেনাবাহিনীতে বাংলাদেশের সম্মানজনক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী কর্মকর্তাদের ওপর হয়তো আবার কোন ধরনের বিপদ নেমে আসছে। সেটা হতে পারে ভূয়া অভ্যূত্থানের গল্প, চাকরিচ্যূতি, আগাম অবসর প্রদান ইত্যাদি। ভারতও তেমনটিই চায়। ভারত চায় পোশাকী সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী ভেঙ্গে দেয়ার সুযোগ নেই। তাদেরকে রেখে তাদেরকে ভারতীয় স্বার্থে কীভাবে ব্যবহার করা যায় সে কৌশল নিয়ে ভারত এগুচ্ছে। যদি দেশের রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক, আমলা, সাংস্কৃতিক কর্মী, এনজিও তথা সরকারকে ভারতমুখী করা যায় - তা’হলে সেনাবাহিনীকে কেন করা যাবে না। সেনাবাহিনীর যে অংশ ঐ কৌশল বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর সম্ভবনা রয়েছে, তাদের ছেঁটে ফেলতেই হয়তো মাইনাস টু’ তথা ১/১১’এর পুনরাগমনের কথা বলা হচ্ছে । অনেকেই মনে করেন রুশ-ভারত বলয়ে বাংলাদেশকে পুনরায় বন্দী করার জন্য শেখ হাসিনার সর্বশেষ উদ্যোগের (অর্থাৎ বেশি দামে নিম্নমানের অস্ত্র ক্রয়) সাথে সংগতি রেখে আমেরিকা-চীনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনাকর্মকতাদের সরিয়ে দেয়ার আগাম বার্তা হলো হয়তো শেখ হাসিনার খোয়াবের মূল কারণ। ভারতও তেমনটিই প্রত্যাশা করে। আর পরিপূরক হিসেবে রাশিয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়ার ইচ্ছা ইতোমধ্যেই ব্যক্ত করেছে।* 


লেখক: আমেরিকা প্রবাসী সাংবাদিক ও গবেষক
ইমেল: হড়ধ@ধমহর.পড়স

Comments (0)Add Comment

Write comment
smaller | bigger

busy

Highlights Archive

More Highlights

Science and Technology

Entertainment

Travel

Life Style & Fashion

Health