SunMay282017

ঘটনা পর¤পরা

  • PDF
Change font size:

 


ড. সুলতান আহমদ,USA


বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসাবে ভারত সরকারের আমন্ত্রনে বেগম খালেদা জিয়ার ভারত সফর নিয়ে প্রকাশ্য জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, তেল মারতে ভারতে গিয়েছিলেন বেগম জিয়া। তাঁর বক্তব্যের ভাষা প্রয়োগের ধরন দেখে অনেকের মত আমিও হতবাক হয়েছি। আমাদের দেশের একজন ক্ষমতাসীন নেত্রী অপর জনের বিরুদ্ধে যে ভাষায় কথা বললেন, তাতে এটা পরিষকার হল, দেশকে কেমন যোগ্যতা ও রুচির লোকজন শাসন করছে। এ নিয়ে ফেএইস বুকেও বেশ কয়েকজনের পোষ্ট দেখলাম। আশাšি¦ত হলাম এজন্য যে, জনগন আমাদের নেতা-নেত্রীদেরকে চিনতে শিখেছে এবং তাদের মনোভাব প্রকাশ করছে। শেখ হাসিনার বক্তব্যের জবাবে শুধু এটাই বলব - আওয়ামী লীগ ভারতকে তেল মারতে মারতে পথ এত পি”ি”ল করে ফেলেছে যে, অন্য কেউ তেল মারতে চাইলেও পথে ধফাস করে চিৎপটাং হবে।

সকল হত্যাকান্ডের মতই অভিজিতের নৃশংস হত্যকান্ড নিয়ে চলছে আরে তোঘলকী কান্ড। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য সচিক দেশবাসিকে জানিয়েছেন যে, সেদিনের ঘটনায় জড়িতদের কেউ ছাত্রলীগের নয়। প্রধানমন্ত্রীর নিকট প্রশ্ন, আপনার অফিসে কি ছাত্রলীগ কর্মীদের নামের তালিকা আছে? আর যদি থাকেও সে তালিকা প্রধানমন্ত্রীর অফিসে নয়, আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় সভানেত্রীর অফিসে থাকার কথা। তাহলে কি প্রধানমন্ত্রীর অফিস আওয়ামী লীগের অফিসে পরিনত হয়েছে? কিন্তু তাতো হবার কথা নয়? কারন প্রধানমন্ত্রীর অফিস চলে আওয়ামী লীগের টাকায় নয়, জনগনের করের টাকায়।

উপরন্তু, অভিজিৎ হত্যার অভিযোগে আটককৃতরা তাদের জবানবন্দিতে বলেছে যে, তারা ছাত্রলীগের কর্মী এবং ছাত্রলীগের কমিটিতে ভাল পদ পাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ নেতৃতেবর দৃষ্টি আকর্ষনের জন্যই এই বিরতবপূর্ন নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। ছাত্র সংগঠনের ভাল পদ পাওয়ার জন্য তাহলে দিবালোকে নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটনো নেতৃতব পাওয়ার চূড়ান্ত পরীক্ষা। অপরদিকে আটককৃতরা চাপাতির কোপ আর লাঠির আঘাতের কথা ¯¦ীকার করলেও, ফরেনসিক পরীক্ষার ডাক্তার নাকি চাপাতি কোপের কোন প্রমান পায়নি অভিজিতের দেহে। আমরা আসলে কেমন দেশে বাস করি?

দুর্ষর্ধ সন্ত্রাসী ও বহু খুনের আসামী বিকাশকে নিয়ে চলছে আরেক নাটক। মখা আলমগীর বলছেন, নিয়মানুযায়ীই বিকাশকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। ভালো কথা। তাহলে অসময়ে, নিয়মানুযায়ী যাদেরকে জানানোর কথা, তাদেরকে জানানো হলনা কেন? মনে করা ¯¦াভাবিক, তাহলে কি ¯¦রাষ্ট্রমন্ত্রীর একক দায়িতেবই বিকাশকে মুক্তি দেয়া হয়েছে? কিন্তু কেন? খবরে প্রকাশ, ৫০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল এ মুক্তির জন্য। এবারও এর সঙ্গে ছাত্রলীগ জড়িত ছিল বলে প্রকাশিত খবরে জানা যায়। টাকা ভাগাভাগি হয়েছে মনে হয় মখা আলমগীর, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা আর ছাত্রলীগ ক্যাডারদের মধ্যে।

এই সরকার একটার পর একটা এমন সব ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে যে, কোন্টা ছেড়ে কোন্টা নিয়ে কথা বলব সেটাই এক সমস্যা হয়ে উঠেছে। একটা গুবলেট গুবলেট অবস্থা। ছন্নছাড়া টেবিল-চেয়ার বিহীন দুর্নীতির কেলেঙ্গারীর দায়ে অভিযুক্ত সুরঞ্জিত বাবু বলেই ফেললেন, ২০১৩ সালের মধ্যেই বিচারাধীন মানবতাবিরোধী ১৪ জনের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে। আওয়ামী লীগের বিজ্ঞ সাধারন স¤পাদক ও মন্ত্রী একবার ঘোষনা দিয়েছিলেন যে, ১৬ ডিসে¤¦রে, ২০১২ এর আগে অন্ততঃ একটি মামলার রায় হবে। অবশ্য তা হয়নি। পরে বললেন, ২০১৩ ডিসে¤¦রের মধ্যে সব মামলার রায় হবে।এ সব বক্তব্য শুনে মনে হওয়া ¯¦াভাবিক যে, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে বিচার বিরোধীরা যেমন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তেমনি আওয়ামী নেতারাও ষড়যন্ত্রে নেমে পড়েছে। তবে এটা সকল পক্ষেরই বুঝা উচিত, একবার যখন বিচার প্রত্রি“য়া শুরু হয়েছে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কারো ক্ষমত নেই যে এ বিচার বন্ধ করতে পারবে। আওয়ামী লীগের এবারের মন্ত্রী সভার মত এত বাচাল, সমস্যা সৃষ্টিকারী, অক্ষম আর দুর্নীতিপ্রবন মন্ত্রী সভা বিগত ৩৮ বছরে জনগন দেখেনি।

পদ্মা সেতুর অবৈধভাবে ভ্রƒন হত্যা করা হল। এ নিয়ে দুর্নীতি হয়নি, হয়েছে, ষড়যন্ত্র হয়েছে, আরও কতকি শুনলাম সরকারের পক্ষ থেকে। তবে এ পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে, তাতে বিশ্ব ব্যাঙ্ক হতে পদ্মা সেতুর জন্য ঋন পাওয়া এক রকম অনিশ্চিত বলা যেতে পারে। অথচ পদ্মা সেতুর ঋন স্থগিত হবার জন্য দেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে প্রধানমন্ত্রী সংসদে যে ভাষায় অপরাধীর কাঠগড়ায় উঠালেন, তা তুলনাবিহীন। অথচ এখন প্রমানিত হল, নিজেদের দুর্নীতির কারনেই এ ঋন স্থগিত করা হয়েছিল। দেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে ড. ইউনূসকে অপমানিত করার জন্য কি শেখ হাসিনা দেশবাসি ও আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইবেন? সংসদ ভাষনে শেখ হাসিনা এক সময় পদ্মা সেতু নির্মানে দেরী করিয়ে দেয়ার জন্য যে আর্থিক ক্ষতি হবে সে ক্ষতিপূরন আদায়ের জন্য বিশ্ব ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে মামলা করতে অর্থমন্ত্রী মালকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এখনত সে ক্ষতিপূরনের মামলা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেই করা যাবে।

বেগম জিয়ার দুই ছেলের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রমানের পর, গেম জিয়ার আরেক আর্থিক কেলেঙ্কারীর খবর প্রকাশ পেল। আমেরিকান সরকারের অবমুক্ত করা গোপন দলীল হতে জানা যায় যে, বেগম জিয়া ‘পিলসবারি উইনথ্রপ স’ পিটম্যান’ নামক লবি ফার্মের সঙ্গে ২০০৭ সনের ১৬ই জুলাই একটি চুক্তি করেন এবং আগষ্ট মাসের ১৪ তারিখে উক্ত ফার্মকে ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার পরিশোধ করেন। এরপর ২০০৮ সনের ফেব্র“য়ারীর ১২ তারিখ একই ফার্মকে আরও ২০ হাজার ডলার প্রদান করেন। তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে যে তিনি কিভাবে এ ডলার পরিশোধ করেছিলেন। লজ্জা শরম থাকলে নেতৃতব দূরে থাক, এমনিতেইত দেশ হতে পালিয়ে যেতেন।

ড. সুলতান আহমদ

E Mail : This e-mail address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it

Comments (0)Add Comment

Write comment
smaller | bigger

busy

Highlights Archive

More Highlights

Science and Technology

Entertainment

Travel

Life Style & Fashion

Health