ThuNov232017

এক্সিকিউটিভ ইসলাম

  • PDF
Change font size:

 

 

 

ডঃ এম, এম, আদেল, USA

ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম এই খন্ডকালীন দুনিয়ায় আর অনন্ত মরণোত্তর দুনিয়ায় শান্তির সংগে বসবাসের প্রয়োজনীয় শৃংখলা বা নিয়মানুবর্তিতার নির্দেশক। ইসলামকে বলা হয়ে থাকে একটা পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থার বিধান। ইসলামের শিক্ষা যারা জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন তারা সত্যিকারের সৌভাগ্যবান। ইসলামকে সামগ্রীকভাবে জানার কোন সরকারী বা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান দেখা যায় না। তাই আমরা এর সম্যক জ্ঞানাধিকারী হয়ে উঠতে পারি না। যদিও বিদ্যা অর্জনকে ইসলাম পুরুষ ও মহিলার জন্য অবশ্য করণীয় করেছে আর তার সময় ধার্য করেছে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, মুসলমানেরা তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যলঘিষ্ঠ উভয় সমাজেই ধর্মীয় জ্ঞানে স্বল্পে তুষ্ট থাকে। শৈশবে কিঞ্চিত ইসলাম চর্চার পরে ইতি টানে। ফলে বলা যায় যে পরবর্তীতে জীবনটা একটা হাইব্রিড আদর্শে চলে থাকে। যে কোরাণে নির্দেশ রয়েছে পুরোপুরিভাবে বিশ্বাস স্থাপনের আর কঠোর হুশিয়ারী রয়েছে এর খানিকটায় বিশ্বাসে আর অবশিষ্টটায় ঔদাসিন্যতায় যা অবিশ্বাসে। এই সাবধানবাণী মুসলমানদেরই মংগলের জন্য, স্রষ্টা আল্লাহর জন্য নয়। এই শান্তির পথ থেকে বিচ্যুতির ফল মুসলমানদেরকেই ভোগ করতে হয়। আমাদের জাতীয় জীবনে উচ্চতম থেকে নিম্নতম পর্যায়ের প্রতিনিধিরা ও নির্বাহকরা তাদের উপর অর্পিত গুরুদায়িত্ব পালনে শান্তির ধর্মের অমূল্য শিক্ষাকে হাতের লক্ষী পায়ে ঠেলার মত করে থাকেন। আমাদের জনজীবনেও তার প্রভাব পড়ে থাকে। ধর্মের পাপ-পুণ্যের ধারণা আইনী-বেআইনী জ্ঞানের মধ্যে চাপা পড়ে গেছে। প্রতিনিধি ও নির্বাহকদের আর জনজীবনের চোখেলাগা কিছু কর্মের মধ্য শান্তির ধর্মের বিধান থেকে বিচ্যুতির পরিপ্রেক্ষিতে লেখাটা রচনা করা হয়েছে কোরাণ-হাদিসের শিক্ষার আলোকে। যাদের জ্ঞাতির উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে তারা যদি কর্মজীবনে এর শিক্ষাসমূহ প্রতিষ্ঠিত করেন, তবে অশেষ পুণ্যের ভাগী হবেন ও দেশ ও সমাজের মংগল হবে। 

দেশশা্সনের মত এতবড় বিরাটকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ আর দ্বিতীয়টা নাই। ন্যায় বিচারের সংগে শাসন করলে তা হয় আল্লাহ তায়ালার প্রতিনিধিত্ব করা। আর অন্যায় ও অবিচারের সংগে শাসন করলে তা হবে শয়তানের প্রতিনিধিত্ব করা। এই প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ (সাঃ) বিভিন্ন সময়ে যা বলেছেন তা কিমিয়ায়ে সা’দাত থেকে সংক্ষিপ্তভাবে উদ্ধৃত হলো।

কোন শাসনকর্তার একটি দিনের জন্য সুবিচারের সহিত দেশশাসন ও প্রজাপালন ৬০ বৎসর ব্যাপি অনবরত আল্লাহ তাযালার ইবাদত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সুবিচারক শাসনকর্তা কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাযালার অনুগ্রহ ছায়ায় আবস্থান করবেন। সুবিচারক শাসনকর্তার আমলনামায় দৈনিক ৬০ জন ছিদ্দিক শ্রেণীর আবেদ লোকের নিরবিচ্ছিন্ন ইবাদতের সমপরিমাণ ইবাদত লিখা হয়। সুবিচারক শাসনকর্তা আল্লাহ তায়ালার নিকট অতিশয় প্রিয় আর অত্যাচারী শাসনকর্তা আল্লাহ তায়ালার ঘোরতর শত্রু আর কঠিন শাস্তির পাত্র। ন্যায়বিচারক শাসনকর্তার জন্য তার অধীনের সমস্ত দেশবাসীর আমলের সমপরিমাণ আমল ফেরেশতাগণ আল্লাহ তায়ালার দরবারে জমা দিয়ে থাকেন আর তার প্রত্যেক নামাযে ৭০ হাযার নামাযের পুণ্য লেখা হয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রীর হাতেই সব চাবিকাঠি। ইচ্ছা করলে এইসব পুরষ্কার উনি লুফে নিতে পারেন। দেশের মানুষও সুখে থাকতে পারে। প্রতিপক্ষও চুপ করে থাকব।

যে শাসনকর্তা দেশবাসীর সংগে কাজে-কর্মে নম্র ব্যবহার করবে কিয়ামতের মহাবিচারের দিনে আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি সদয় ব্যবহার করবেন। রসুল্লুল্লাহ (সাঃ)-এর আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রার্থনায় বলেছেন সদয় শাসনকর্তার প্রতি সদয় ব্যবহারের জন্য আর কঠোর শাসনর্তার প্রতি কঠোর হওয়ার জন্য। শাসনকর্তার জন্য শাসন কার্যের হক পূর্ণরূপে পালন করা অতি উত্তম আর পক্ষান্তরে অন্যথায় করা ক্ষতিকর। শুধু প্রয়োজন সরকারের একটু সদিচ্ছার। মনমানসিকতার পরিবর্তন হলেই মহানবী (সাঃ) প্রার্থনার মধ্যে গণ্য হতে পারেন।

অনুগ্রহপ্রার্থীকে অনুগ্রহ, বিচারপ্রার্থীর সুবিচার, আর মানুষকে দেওয়া অঙ্গীকার যথাযথ পালন না করলে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার ফেরেশতাগণের ও সমস্ত সৃষ্ট জগতের অভিসম্পাদের প্রাত্র হতে হয়। এমন ব্যক্তির ফরয ও সুন্নত ইবাদত আল্লাহ তায়ালা কবুল করে থাকেন না। বিভীষিকাময় কেয়ামতের মহা্বিচারের দিনে আল্লাহ তায়ালা মিথ্যাবাদী শাসনকর্তার প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না। পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত দেশগুলি মুসলমানদের কবলে আসলে তথাকার শাসনকর্তারা দোযখবাসী হবে।  তবে যারা আল্রাহর ভয়ে ভীত থাকবে, পরহেযগারী অবলম্বন করবে ও আমানত রক্ষা করবে তারা অবশ্যই বেহেশতবাসী হবে। আল্লাহ তায়ালা যে ব্যক্তির উপর প্রজাপালনের গুরুভার অর্পণ করেছেন সে যদি বিশ্বাসঘাতকতা করে আর সস্নেহে প্রজাপালন না করে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য বেহেশতের দ্বার রুদ্ধ করে দেবেন। আল্লাহ তায়ালা যাকে মুসনমানদের শাসনকর্তা্ বানিয়েছেন সে যদি নিজের পরিবারবর্গের ন্যায় স্নেহ ও যত্নের সহিত মুসলমান প্রজাদের দেখাশোনা না করে সে যেন নিজের বাসস্থান দোযখের মধ্যে দেখে নেয়। প্রধানমন্ত্রীর জন্য অনেক সাবধানবাণী রয়েছে এখানে। ধর্ম শিক্ষার ব্যবস্থা থাকলে এসম্বন্ধে সবাই জ্ঞাত হতে পারতো।  

যে দুই প্রকার লোক রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর সুপারিশবঞ্চিত হবে তারা হচ্ছে অত্যাচারী শাসনকর্তা আর ধর্মকর্মে অনর্থক বিচ্ছেদ ঘটানোর সীমালংঘনকারী। অত্যাচারী শাসনকর্তাকে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা পাঁচ প্রকার লোকের প্রতি অসন্তষ্ট। আল্লাহ ইচ্ছা করলে এদের শাস্তি এই পৃথিবী থেকেই শুরু করতে পারেন। পরকালে অনন্ত শাস্তি তো অবধারিত। এরা হচ্ছে (১)দেশের বা সম্প্রদায়ের নেতা যে অধীনস্তদের থেকে নিজের প্রাপ্য ষোল আনাই আদায় করে নেয়, তাদের প্রতি সুবিচার করে না আর অত্যাচার করে থাকে, (২) নেতা যাকে লোকজন অনুকরণ করে থাকে কিন্তু সে অধীনস্তদের মধ্যে পক্ষপাতিত্ব করে থাকে,  (৩) যে শ্রমিকদ্বারা কাজ সম্পন্ন করে শ্রমিককে মজুরী দিয়ে থাকে না, (৪) যে স্ত্রী-পুত্র পরিজনদের ধর্ম শিক্ষার ও ভরণ-পোষণের ব্যাপারে উদাসীন, (৫) যে স্ত্রীর দেন মহরের ব্যাপারে স্ত্রীর প্রতি অন্যায় আচরন করে।  সবস্তরের নেতার জন্য ধর্মে অনেক কিছু শিখার রয়েছে। আমাদের রাজনীতিকরা যতই বলুন না কেন যে ধর্মনিরপেক্ষতা অর্থ ধর্মহীনতা না, আসলে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রচার করেই সমাজে ধর্মহীনতা ঘটেছে, ধর্মশিক্ষার অবক্ষয় ঘটেছে।

মহাবিচারের দিন নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী শাসক, সমাজপতি, নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, এবং দায়িত্বরপূর্ণ পদে অধিষ্ঠত ব্যক্তিবর্গের কেশগুচ্ছ বাঁধিয়া ঝুলাইয়া রাখা হবে। এমনকি দশজন ব্যক্তির নেতাকেও হাতকড়া পরিয়ে মহাবিচারকের নিকট আনা হবে। সে যদি যথাযথ কর্তব্য সম্পাদনকারী প্রমাণিত হয়, মুক্তি পাবে। আর যদি তার বিপরীতটা প্রমাণিত হয় তবে তার হাতে আরও একটা শিকল পরায়ে দেওয়া হবে।

কেয়ামতের দিবসে পৃথিবীর শাসক ও বিচারকদের মধ্যে যারা আল্লহর বিধান অনুযায়ী শাসন ও বিচার করে নাই অর্থাৎ অধিক বা কম শাস্তি দিয়েছে যা সীমালংঘন করার শামিল তাদের দ্বারা জাহান্নামের কোণসমূহ পূর্ণ করা হবে। আমাদের দেশে এটা ঘটেই চলেছে। সংবাদ মাধ্যমেই জানা যায় ফাঁসির আসামীর খালাষ, খুনীর জেলখানা থেকে মুক্তি, রেকর্ডসৃষ্টিকারী ধর্ষককে বিদেশে চাকুরীর পুরষ্কার প্রদান, ইত্যাদি আরও কত কি।    

মহাবিচারের দিনে সুবিচারক এবং অত্যাচারী সবরকম শাসনকর্তাকে পুলছিরাতের উপর দাঁড় করানো হবে। আল্লাহ তায়ালার হুকুমে পুলছিরাত ঝাঁকুনি দিলে দোযখের গভীরতম গহবরে যেখানে পৌঁছতে ৭০ বছর সময় লাগে সেখানকার বাসস্থানের অধিকারী হবে যারা বিচার মীমাংসায় জুলুম করেছিল, যারা ঘুঁষ গ্রহণপূর্বক অন্যায় বিচার করেছিল, বা যারা কোন পক্ষের কথা শুনতে পক্ষপাতিত্য করতো। এসব বিষয়ে “প্রতিদিন কত খবর আসে কাগজের পাতা ভরে”।

খলীফা হারুনুর রশিদ একবার তার সংগী আব্বাসকে নিয়ে ফোযায়েল ইয়াযের সংগে সাক্ষাৎ করতে যান। তাঁর ঘরের দরজায় গিয়ে এই দুজন শুনতে পান –

“আম হাসিবাল্লাযীনাজ তারাহুসসায়য়ীয়াতে আন্নাজয়ালাহুম কাল্লাযীনা আমানূ ওয়া আমেলুছ্ছালেহাতে সা ওয়ায়াম্মাহ ইয়াহুম ওয়া মামাতুহুম; সায়া মা ইয়াহকুমুন” – যারা মন্দ কাজ করিয়াছে, তারা কি ধারণা করে যে, আমি তাহাদিগকে ঈমানদার এবং নেককার লোকদের সমান মর্যাদা দান করিব? তাদের জীবন এবং মরণ উভয়ই সমান? তারা যা করছে তা জঘন্য।“ (সুরা জাছিয়া, ৪৫:২১) হারুনুর রশিদ আয়াতটি শোনা মাত্রই বলেন যে সত্যিকার উপদেশের জন্য এই আয়াতটিই যথেষ্ট। ফোযায়েল ইয়ায খলীফাকে প্রস্তুত থাকতে বললেন যে মহাবিচারের দিনে প্রজাদের সংগে তাঁকে দাঁড় করানো হবে ও তাদের সম্বন্ধে খলীফার বিচার হবে। খলীফা তখন কেঁদে ফেললেন। খলীফা ফোযায়েলকে তাঁর মায়ের দায়ের মহরের সহস্র স্বর্ণমুদ্রা নযরানা দিতে গেলে উনি তা গ্রহন না করে যাদের নিকট থেকে খলীফা অন্যায়ভাবে যা গ্রহণ করেছে তাদেরকে তা ফিরিয়ে দিতে বললেন। আমাদের সমাজে অন্যায়ভাবে গ্রহণ তো বেশুমার পরিমাণ ঘটে থাকছে।

ইমাইয়া বংশের খলীফা হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আযিয মুহম্ম্দ ইবনে-ক্বাআবুল ক্বারাযীর নিকট থেকে সুবিচারের সংজ্ঞা জানতে চাইলে খলীফাকে বলা হয়েছিল তাঁর বয়ঃকনিষ্ঠ প্রজাদেরকে পুত্রবৎজ্ঞান করতে আর স্নেহপূর্ণ পিতার ন্যায় সদয় ব্যবহার করতে এবং সমবয়স্কদের ভ্রাতৃবৎ জ্ঞান করতে। খলীফাকে আরও বলা হয়েছিল প্রত্যেক অপরাধীকে তার অপরাধের পরিমাণ ও ক্ষমতানুসারে শাস্তি প্রদান করতে আর ক্রোধের বশবর্তী হয়ে কাউকে অতিরিক্ত শাস্তি প্রদান না করতে।

মুসলিমপ্রধান দেশে সংখ্যালঘুদের অত্যাচার মুসলমানদের সাজে না। বিশ্বনবী (সাঃ) বলেগেছেন শেষ বিচারের দিনে উনি ঐ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের জন্য আল্লাহর নিকট সুপারিশ করবেন না যে মুসলমানপ্রধান দেশের অধিবাসী হয়ে সংখ্যলঘু অমুসলমানের অত্যাচার করে। পবিত্র কোরাণে বলা হয়েছে অমুসলমানদের দেব-দেবী বা উপসনার বস্তু সম্বন্ধে কটুক্তি না করতে (সুরা আল-আনাম ৬:১০৮)। এর চেয়ে বড় ধর্মনিরপেক্ষতার বাণী পৃথিবীর কোন ধর্মে আছে? সরকারপ্রধানের পুজামন্ডপে গিয়ে দুর্গাদেবীকে “মা” বলে সম্বোধন করার চাইতে বিশ্বজিতের মত যুবকদের প্রাণরক্ষা করা অগণিত গুণে শ্রেয় ছিল। পবিত্র কোরাণেই উল্লেখ আছে যে একজন নিরপরাধের জীবনরক্ষা করা মানে সমগ্র মানব জাতির জীবন রক্ষা করা আর  একজন নিরপরাধের জীবনাবসান করা অর্থ সমগ্র গোটা মানব জাতির জিবন ধ্বংস করা (সুরা আল-মাইদা, ৫:৩২)। আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী মুহম্মদ (সাঃ)-এর সুপারিশ ছাড়া পরকালে কেউই মুক্তির আশা করতে পারি না। মুসলমান সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশে অমুসলমানেরা জিম্মি যাদের রক্ষণাবেক্ষণের ভার রাষ্ট্রের। মুসলমানদের হেফাজতে অমুসলমানেরা থাকবে। কোন বড়ুয়ার ফ্যান্টাসীর জন্য সব বড়ুয়া-অবড়ুয়া দায়ী হতে পারে না। এই ধর্মীয় জ্ঞান যদি সবার থাকতো তবে সংখ্যালঘুর বাড়ী-ঘর ভাংগ-চুর ও তছনছ করতে পারতো না। অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকলে এই অমানুষিক কর্ম কোন মুসলমানই করতে পারে না। পুলিসের মাথায় এই অমূল্য শিক্ষা থাকলে তারা নিষ্কৃয় থাকতে পারতো না। বিশ্বজিতের মত একজন হিন্দু যুবককে কুপিয়ে খুন করার সাহস ধর্মনিরপেক্ষীদের থাকতে পারে না, ধর্মহীনদের থাকে। যেহেতু ধর্ম শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হয় না তাই ধর্মীয় জ্ঞান প্রসার লাভ করতে পারে না। উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে ইহকাল পরকাল দুই-ই হারাতে হয়।  

দেশে ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে ধর্মহীনতার ছড়াছড়ি। সর্বোপরি থেকে ধরা যাক। প্রধান মন্ত্রী জনসমক্ষে বলে থাকেন যে ভোরে উঠে উনি কোরানশরীফ পাঠ করেন। To read is to learn and to learn is to retain.  প্রধানমন্ত্রী হয়ে শুধু পাঠ করার ফাযদা লুটলে তো হয় না। অর্ধটাও বুঝা প্রয়োজন এবং তা জীবনে কাজে লাগানো প্রয়োজন। ইসলাম কোথায়ও বলে না যে কারও প্রতিকৃতিতে মাল্য দান করতে যার দ্বারা উনার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। উনি তা করে থাকেন। আল্লাহর নিকট আশরাফ আতরাফ নাই। এই ধ্যানধারনা আমাদের। আল্লাহর মৃত বান্দার জন্য দোয়াটাই সবচেয়ে বড়। আর মৃত বান্দার ছেলেমেয়েদের দোয়া আল্লাহর নিকট সর্বাগ্র গ্রহনযোগ্য। মৃত বান্দা তার জীবিত ধার্মিক সন্তানদের জন্য বড় পুণ্যের ভাগী হয়ে থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সমগ্র জাতি যার জন্য দোয়া করবে সেখানে তিনি আপত্তিকর প্রথা চালু করেন। উনি হয়তে একবার ভেবে দেখেন না কতজন তার এই বেদাতী কর্ম অপছন্দ করে থাকেন। জনসাধারণের মৌনতা এখানে সম্মতি লক্ষণ হিসাবে কাজ করে থাকে না। সুরা হাশরের ১০ নং আয়াতে বলা হয়েছে: “রাব্বানাগ ফেরলানা ওয়ালিইখওয়া নিনাল্লাযিনা সাবাকূনা বিল ঈমানে ওয়ালা তাজয়াল ফী কুলূবিনা গিল্লালাযীনা আমানূ রাব্বানা ইন্নাকা গাফুরুররাহীম – হে আল্লাহ! আমাদিগকে ও আমাদের পূর্ববর্তী বিশ্বাসীদের ক্ষমা করো আর আমাদের অন্তরে বিশ্বাসীদের প্রতি হিংসা উৎপাদন করিও না। হে আল্লাহ তুমি দয়লু, দয়াময়”। পবিত্র কোরাণের এই দুয়াটা সবার্ জানা থাকলে সরকারেরও মংগল। উনার দেখাদেখি আরও অনেকে তাদের গুরুজনদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রচলন শুরু করতে পারেন। ইসলামী নির্দেশনার স্বতঃসিদ্ধ অনুসারে প্রধানমন্ত্রীর এই বেদাতী কর্মের যারা যারা অনুসারী হবে তাদের বেদাতধর্মী কর্মের জন্য প্রধানমন্ত্রীকেই দায়ী থাকতে হবে।

ইসলামে সন্দেহ করা মহাপাপ (সুরা হুজুরাত ৪৯:১২)। বোখারীশরীফের ৮ নং খন্ডের ৯২ নং হাদিসে বলা হয়েছে যে সন্দেহ করা হচ্ছে মিথ্যার বেসাতির মধ্যে নিকৃষ্টতম। সহীহ বোখারীর ৮ নং খন্ডের ৮২ নং হাদিসে বলা হয়েছে যে এইরূপ ব্যক্তি বেহেশতে যাবে না। ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের জৈব অস্ত্র রয়েছে এই সন্দেহর বশবর্তী হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশের কার্যকলাপে আজও দুনিয়া জ্বলছে। কোথায়ও কোন অঘটন ঘটল অনুসন্ধান না করেই ক্ষমতাসীনরা তাদের প্রতিপক্ষের সন্দেহভাজন করে থাকেন। এটাই আজকের বাংলাদেশর রাজনীতির নির্দেশনা দিয়ে থাকছে। ফলটা হয়ে থাকে কি পুলিস, গোয়েন্দা, র‍্যাব কেউই ক্ষমতাসীনদের ইশারার বাইরে যেতে পারে না। এইসব বাহিনীর কাজও সহজ হয়ে থাকে। এতে তাদের মাথা খাওয়া হয়ে থাকে। কর্মে নিপুণতা অর্জনে যে অনুশীলনতার প্রয়োজন তাত্থেকে এইসব বাহিনীর লোকজন বঞ্চিত হয়ে থাকে। সব বিদ্যার্থী্-বিদ্যার্থিনীই জানে অনুশীলন না করলে জ্ঞানার্জন করা যায় না। প্রধানমন্ত্রীর উচিত তাঁর সব অপরিণামদর্শীদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া। আশাকরি প্রধানমন্ত্রী বুঝে উঠবেন জাতির জন্য এইসব নেতাদের অঙ্গুলিনির্দেশনা কতখানি ক্ষতিকর। এইসব অপরিণামদর্শীদের মত কান পাতলা লোক চিরদিন থাকবে না। কিন্তু এই জাতিটাকে টিকে থাকতে হবে আর পুলিস, গোয়েন্দা, র‍্যাবকেও জাতির সেবা করতে হবে। অপরিণামদর্শী নেতাদের এই ব্যামো থেকে বাঁচতে হলে উচিত মনে প্রাণে অধিক পরিমাণে তেলাওয়াত করা সুরা নাস যা মানুষের অন্তরে শয়তান ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের দ্বারা দেওয়া কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করে থাকে। অত্যন্ত উপকারী হববে সুরা মুমিনুনের ৯৭ ও ৯৮ আয়াতও “রাব্বি আয়ূযুবেকা মিন হামাযাতেশ্শাইয়াতীনে ওয়া আষূযুবেকা রাব্বি আঁয় ইয়াহদুরূন” যার অর্থ হচ্ছে আল্লাহ আমি শয়তানী কুমণ্ত্রণা থেকে তোমার নিকট আশ্রয়প্রার্থী এবং আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি যে এরা আমার সংগে উপস্থিত থাকতে পারে।

সুরা হুজুরাতের ১২ নং আয়াতে পরিষ্কার করে বলা আছে: ওহে বিশ্বাসীগণ, অতিরিক্ত সন্দেহ বর্জন কর, কোন কোন সন্দেহভাজন পাপ বলে গণ্য হয়ে থাকে। আর অনুসন্ধিৎসু করো না, পরনিন্দাও করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস ভক্ষন করতে পছন্দ করবে। তুমি ঘৃনা করবে (অতএব গীবৎ গাওয়া বন্ধ করো)। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাপের পরিতাম গ্হণ করে থাকন। তিনি সর্বাধিক দয়ালু। (৪৯:১২)

আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন যে নবী করিম (সাঃ) বলেছেনঃ “সন্দেহভাজন থেকে সাবধান, কারণ সন্দেহ করা মিথ্যার বেসাতির মধ্যে নিকৃষ্টতম, আর অন্যের দোষ খুঁজতে ঘুরাফিরা করো না। একে অন্যের জন্য গুপ্তচরগিরি করো না। জিনিসপত্রের দরাদরিতে অন্যকে প্রলোভিত করতে উচ্চ মূল্য দিতে চেও না। একে অন্যকে হিংসা করো না। একে অন্যকে ঘৃণা করো না। একে অন্যকে পরিত্যাগ করো না (কথা বলা বন্ধ করো না।) ওহে আল্লাহর ইবাদতকারীরা! ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হও!(সহিহ আল বুখারী, ৮ নং খন্ড, ৯২ নং হাদিস)

হোদায়ফা (রাঃ) বলেন যে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলতে শুনেছেন যে ঐ ব্যক্তি বেহেশতে প্রবেশ করতে যে অপছন্দনীয় কথা ও মিথ্যা তথ্য একজনের নিকট থেকে অন্যের নিকট প্রকাশ করে থাকে তাদের মধ্য ক্ষতি সাধন ও শত্রুতা সৃষ্টির উদ্দশ্যে।(সহিহ আল বুখারী, ৮ নং খন্ড, ৮২ নং হাদিস)।

ইবন আব্বাস (রাঃ)বলেন যে মুহম্মদ (সাঃ) দুটা কবেরর পাশ দিয়ে যেতে আঁচ করলেন যে উভয়েরই কবরে শাস্তি হচ্ছিল। তাদের একজনের অভ্যাস ছিল প্রস্রাবের পর পানি ব্যবহার করে পরিষ্কার হতো না আর একজনের অভ্যাস ছিল একজনের কথা অন্যজনের কাছ লাগানো। পরবর্তীতে তিনি (সাঃ) সবুজ তাজা খেজুরের ডাল দ্বিখন্ডিত করে উভয়ের কবরেই পুঁতে দিলেন আর আশা করলেন যে যত দিন খেজুরের ডাল শুকিয়ে যাবে না ততোদিন তাদের কবরের আযাব লাঘব হতে পারে(সহিহ আল বুখারী, ৮ নং খন্ড, ৭৮ নং হাদিস)।

আমাদের সমাজে কথা লাগানো আর সন্দেহের কারণে অনেক বিবাদ ঘটে থাকে। এই অভ্যাস যদি যথাসময়ে বিনষ্ট করা হয়, সমাজের প্রায় অর্ধেক অপরাধ দমন করা হলো্। সরকারের যে গণশিক্ষা বিভাগ আছে তার শিক্ষাক্রমের মধ্যে ধর্মের এই বাণীগুলো অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন সমাজের স্বাস্থ্য ভাল করতে হলে। 

আমাদের রাজনীতিকদের মধ্যেও তেমনি শত্রুতা, গীবত, হিংসা, ইত্যাদির বীজবপন করে অতি সক্রিয় ও মুখোরা করা হয়েছে। টেলিভিশনের সময় অতি মূল্যবান। আর এই মূল্যবান সময়টাই ব্যয় করা হয়ে থাকে ঐ ত্রিবিধ বিষয়িক কটুক্তি শোনানোর কাজে। আল্লাহর ভয় যদি ভিতরে থাকে, মৃত্যু ও পরকালের মুখোমুখিতে যদি বিশ্বাস করে তবে ঐসব শ্রুতিকটু কথা বলতে শরীর কাঁপার কথা। এটা ধর্ম নিরপেক্ষতার অবদান না অপদান? একটা ভাল কথা ক্ষমতাসীনদের নিকট শোনা যায় না। হাযারো সমস্যা রয়েছে সমাজে-দেশ যা সব সমাধানের জন্য বিজ্ঞ আলাচনার প্রয়োজন। বরং তাদের আলোচনা সভায “ঘোড়ার রচনায বটগাছ সম্বন্ধে” জানা যায়। যে বিষয়কে কেন্দ্র করে সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হয় মিডিয়া সে বিষয়িক নামমাত্র ছাড়া আর কোন উপস্থাপন করে থাকে না। বক্তার শ্রুতিকটু কথাই শুধু তুলে ধরা হয়।

আমরিকাযও দ্বিদল ভিত্তিক রাজনীতি হয়ে থাকে। ক্ষমতাসীন দল কোনও সময় ক্ষমতাচ্যুত দলকে এমন ভাবে দোষারোপ করে থাকে না যেমন বাংলাদেশের মুসলমান রাজনীতিকরা করে থাকেন। তাদের হাতে এত সময় যে সিংহভাগ সময় তারা ক্ষমতাহীনদের বদনামে ব্যবহার করে থাকে। ধর্মীয় অনুশাসন অবহেলা করেই এতদূর পৌঁছেচে।

বোখারী আরও মোসলিম শরীফে বর্ণিত আছে যে সত্যিকার মুসলমান হতে হলে নিজের জন্য যা চাওয়া হয় অপরের জন্যও তাই চেতে হবে। আমরা মুসলমান বলে পরিচয়ও দেব আবার অন্যের হক মেরে আখের গুটাবো এই পরস্পর বিরোধী মতাদর্শ তো আর মুসলমানের অন্তরে স্থান পেতে পারে না। বোখারী শরীফে আরও বলা হয়েছে যে এক মুসলমানের জিহবা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকবে। দেশে কে কার নিরাপত্তা দেবে? হালের রাজনৈতিক নেতাদের মুখ থেকে প্রতিপক্ষের জন্য আগুন ছুটে। হত্যাগুমের মাঝেও সাহারা খাতুন দেশের বর্তমান অবস্থা অতীত থেকে ভাল দ্ব্যর্থ কণ্ঠে দাবী করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীত্ব করে গেলেন। দেশে তো এটা এখন ডাল-ভাতের মত ব্যাপার হয়েছে।  

ব্যবহার সম্বন্ধে আবু দাউদ হাদিস গ্রন্থে বলা হয়েছে যে সর্বাপেক্ষা খাঁটি মুসলমানেরা সর্বোত্তম আচার-ব্যবহার দেখায়ে থাকবে। বোখারী ও মোসলেম হাদিস গ্রন্থদ্বয়ে বলা হয়েছে যে সর্বোত্তম আচার-ব্যবহারকারীরাই সর্বোত্তম। মসনদে আহমদ গ্রন্থে উল্লখ আছে যে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন তাঁকে পাঠানো হয়েছে। মানব জতির ইতিহাসে মুহম্মদ (সাঃ)ছাড়া এমন কোন ব্যক্তির কি নজির আছে যিনি নিজের পথে দৈনন্দিনের মত কাঁটা না দেখে খোঁজ নিতে গেছেন কাঁটা বিছানোকারিনীর বাড়ীতে এই ভেবে যে অসুস্থ হতে পারে? এই রকম ব্যবহারের প্রতিদান চোখবুঁজে আজীবন আনুগত্য প্রদর্র্শেনর মাধ্যমেও করা যায় না। খলীফা ওমর যাঁর রাজ্য বিস্তৃত ছিল এশিয়া, ইউরোপ, ও আফ্রিকায় রাতের বেলায় ঘুরে ঘুরে প্রজাদের অবস্থা দেখতেন। এক দরিদ্র পরিবারের বাচ্চারা অনাহারে আছে দেখে নিজে মাথায় করে সরকারি গুদাম থেকে খাবার বয়ে নিয়ে গেছেন। পরিবারের মহিলা জানতো না যে ঐ ব্যক্তি খলীফা ওমর। তাই সে বলেছিল:

“কে তুমি আমায় বাঁচালে আমায়,

পৃথিবীর রাজা খোদায় করুণ তোমায়;

খলীফা ওমর হতে তুমি মহত্তর ... ।”

আর একটা ঘটনা। মুসলমানদের ছিল জিহাদ আর খ্রীষ্টানদের ছিল ক্রুছেড। মুসলমানদের নেতা ছিল সালাহউদ্দিন আর খ্রীষ্টানদের ছিল রিচার্ড। রিচার্ডকে কয়দিন না দেখে অসুস্থ জেনে সালাহউদ্দিন ছব্দবেশে গিয়ে বিচার্ডের চিকিৎসা করে সুস্থ করে তুলেছিলেন। কোন ধর্মে শাসনকর্তাদের এমন নজির আছে? আমাদের দেশের নেতারা পরস্পরের শত্রু মনে করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ তো একেবারে পাশ করা। কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদে বলছিলেন: “জেনে শুনে শত্রুর হাতে  ... ... ... তুলে দিবেন না।” এইসব হচ্ছে আমাদের নেতাদের ধর্মীয় জ্ঞানের বহরের প্রতিফলন আর অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। 

বোখারী ও মুসলিম শরীফে মুসলমান জাতিকে একটা দেহের সংগে তূলনা করে হয়েছে। দেহের একাংশ আক্রান্ত সর্বাংশে ব্যথা অনুভূত হয়ে থাকে। দেশের লোকেরা আপন বৈর। আরথ্রইটিস রোগে নাকি শরীর নিজেই নিজেকে শেষ করে। দেশের লোকজনদের স্ববিরোধীপনা নিজেদেরই ক্ষতি ডেকে আনে। আজ দেশে ধর্মাবহেলা করে, ধর্মের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে, ধর্ম সম্বন্ধে বিরূপ ধারণা দেওয়া হয়েছে। কতভাবে যে উদরপিন্ডি বুদোর ঘাড়ে করা হচ্ছে ও করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নাই। একমাত্র ধর্মীয় শিক্ষার উপর জোর এসব বন্ধ করতে পারে। ধর্মের আসল রূপটা তলিয়ে না দেখে ধর্ম নিরপেক্ষতার অবতারনা করা হয়ে থাকে। আমরা অবক্ষয়ে দারুন পটু। নিজেদের অমূল্য আমানতের খেয়ানত করে থাকি।

কোরাণ শরীফে বারংবার চরমপন্থী হতে নিশেধ করা হয়েছে। নাছোড় বান্দারাই চরমপন্থী। প্রধানমন্ত্রী থেকে নিম্নস্তর পর্যন্ত সবস্তরেই চরমপন্থীপনা বিদ্যমান। পবিত্র কোরাণে বলা হয়েছে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে। প্রধানমন্ত্রী কেয়ার টেকার সরকারে রাজি নন। বিরোধী পক্ষ তা মানতে পারবে না। নিশ্চয়ই বিরোধীপক্ষের ও নিরপেক্ষপক্ষের যথেষ্ট যুক্তি আছে। যথাসময়ে আজকের নেতাদের ধর্মীয় ছবক দিলে তাদের এই গোঁ ধরে থাকা এতদূর গড়াতো না। ইহকাল ও পরকাল সজাগ থাকলে আর নিজের কর্মফলের জবাবদিহিতার ভয় থাকলে এত লুটপাট, হরিলুটের বাতাসার মত জাতীয় ব্যাংকের সম্পদ হরণ, খুন-গুম, স্বজনপ্রীতি, ইত্যাদি ঘটতে পারতো না। পরকালের উত্তম বায়োডাটা তৈরীতে তৎপর থাকতো। কেয়ার টেকারের ধারণাই মনে আসতো না কারণ প্রয়োজন হতো না। আমরা দূর্নীতিবাজদের তলে পড়ে থাকতাম না। সুবিধাবাদী রাজনীতিকরা তাদের সুবিধালুটার জন্যই ধর্ম নিরপেক্ষ করে ধর্মের বাধা দূর করেছে। এক হাদিসে বলা হয়েছে যে ইহকালে যে আল্লাহকে যত বেশী ভয় করবে পরকাল তার জন্য তত ঝরঝরে হবে আর ইহকালে যে নির্ভীক হবে পরকালে সে ভয়ে সন্ত্রষ্ট থাকবে।

বিদেশ ভ্রমণে প্রধানমন্ত্রীর আত্নীয়-স্বজন চিরসঙ্গী। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিকদের কষ্টার্জিত ডলার ব্যয় করতে মজা লাগে। কিন্তু বিদেশের দুর্যোগে আটকেপড়া শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনতে হাতে-গায়ে আর বল হয় না। সংখ্যায় তারা এত হয়ে থাকে যে শ্রমমন্ত্রীর শক্তির বাইরে চলে যায়। খলীফা ওমর তাঁর শাসনব্যবস্থায় কোন আত্নীয় ঢোকান নাই। আর আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পুত্রই অনেক ভূমিকায় মাতৃ সেবাদান করে থাকেন। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ ভ্রমণে সাঙ্গ-পাঙ্গের সংখ্যা এতই বেশী যে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারে্ তা ঠেকে যায়। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারী টাকা খরচে্র কড়ায়-গন্ডায় নীরিক্ষণ করা হয়ে থাকে।

বিদেশে যারা চাকুরি করে থাকেন, তারা অনেকেই অমানসম্মত জীবনযাত্রা করে জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে ডলার জমা করে দেশে পাঠায়ে থাকেন। যারা গ্যাস স্টেশনে কাজ করেন তাদের জীবনে নিরাপত্তা খুবই কম। কিছু দিন আগের কথা। রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকা থেকে এক যুবক ডিভি-র মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আসার সুযোগ পেয়েছিল। ডিভি-র মধ্যে দেশে বোধ হয় অনেক কিছু ঘটে থাকে। সে যুবকের ডিভি-র প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কেমন করে এক দালাল শ্রেণী কুক্ষগত করে ও কয়েক লাখ টাকার পণ দিয়ে যুবকের পিতামাতা তার যুক্তরাষ্ট্র আসার পথ খোলাসা করে। পিতামাতার একমাত্র সন্তান ছিল এই যুবক। ভাবী শ্বশুরের অর্থ সংকুলানে সে আমেরিকায় পাড়ি জমায়। নিউ ইয়র্কে কিছুদিন থাকার পর আরকানছয়ের পাইন ব্লাফ গ্যাস স্টেশনে কাজ নিয়ে আসে। কিছু দিন যেতে না যেতে্‌ই একদিন স্টোরে তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। এরকম ও এর থেকে লঘুতর অনেক ঘটনার সম্মুখীন হয়ে থাকেন বিদেশে বাংলাদেশী শ্রমজীবিরা। যুবকের চাকুরীদাতারা কয়েক হাজার ডলার খরচে তার মৃতদেহ দেশে পাঠায়্। আর স্থানীয় বাংলাদেশীরা দশ সহস্রাধিক ডলার তার বাবা-মায়ের নিকট পাঠানোর ব্যবস্থা করে। প্রধানমনত্রী যে বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা জমা হওয়ার কথা বলেন এইসব দান-ধ্যানও তার অংশ। সরকারী পর্যায়ে এসব খরচ হয়ে থাকে গৌরীসেনের মালের মত।       

সুরঞ্জিত সেনও হিন্দুত্ব বলিদান করে নি। রোজদারদের ইফতারে পাঁঠার মাংসের ব্যবস্থা ছিল। হয়তো সেটার বলির পাঁঠারই হবে। শিল্পমনত্রী বড়ুয়া তার বড়ুয়াত্ব ত্যাগ করে নাই। মনমোহন সিংহ মাথায় পাগড়ী বেঁধে সারাটা ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছে। আর আমাদের নেতা-নেতৃরা ইসলামকে তালাবদ্ধ করে রাখতে চান। তারা যতই ময়ূরপুচ্ছ পরিধান করুন না কেন ঘরে-বাইরে তাদের পরিচিতির পরিবর্তন হবে না। ইসলামকে বাদ দিতে পারেন কিন্তু অমুসলমান কেউ-ই বলবেনা, নিজেরা তো বলবেনই না। আজকাল ডিজিট্যাল কথাটা খুউব ভাল লাগে। এটা রাজনৈতিক মুনাফা আদায়েরও একটা চমকপ্রদ শব্দ। ইসলামের আলোকে যদি নিজেদের মুসলমানিত্ব ডিজিটাইজ করা যায়, তবে পরিষ্কারভাবে ধরা পড়ে শতকরা কতভাগ মুসলমানিত্বের বড়াই করি আমরা।

আমাদের প্রতিনিধিদের আর নির্বাহকদের দৃশ্যতঃ কর্মকান্ডেরই বিশ্লেশন এই রকম দুই একটা লেখায় শেষ করা যাবে না। সামগ্রীক কর্ম-কান্ড বিশ্লশনের অনেক পয়োজন।

কবিদের ভাষায় তাই বলতে হয় “আল্লাহকে যার পূর্ণ ঈমান কোথা সে মুসলমান”?

ইসলাম সেতো পরশমণি তারে কে পেয়েছে খুঁজি

পরশে তার সোনা হলো যারা তাদেরই মোরা বুঝি

 আশাকরি পাঠকবর্গ কবিতার শেষোক্ত পংক্তি দুটো গভীরভাবে চিন্তা করে দেখবেন।

রসুলুল্লাহ (সাঃ) হাদিস মারফত বলেছেন আমাদের কোন কোন কর্মদোষের কি কি কর্মফল ভোগ করতে হবে। তিনি (সাঃ) মহাজেরদের উদ্দেশ্য করে বলেন যে তারা পাচটা কারণে কষ্ট পেতে পারে – আল্লাহ না করুক সেগুলো দেখতে তাদেরকে এতদিন বেঁচে থাক। অবৈধ যৌনসম্পর্ক ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেলে নূতন নূতন রোগের আবির্ভাব ঘটবে। লোকজন কেনা-বেচায় ওজনে কম দেওয়া শুরু করলে লোকজন অভাব-অনটনের মধ্যে পড়বে ও অনাবৃষ্টি হবে আর তাদের শাসকরা অত্যাচারী হবে। লোকজন যাকাত দেওয়া বন্ধ করলে বৃষ্টি পড়া বন্ধ হবে – আর জীব-যন্তুর জন্য না হলে বৃষ্টি পড়া বন্ধ হতো। লোকজন আল্লাহ আর রসুলাল্লাহ (সাঃ)-এর সংগে চুক্তি ভংগ করলে (অর্থাৎ নাফরমানি করলে, অবাধ্য হলে) আল্লাহ লোকজনদের বিরূদ্ধে শত্রু পাঠাবেন যারা বলপ্রয়োগের দ্বারা তাদের কিছূ সম্পত্তি নিয়ে যাবে। যদি নেতারা আল্লাহ কিতাব অনুযায়ী দেশ শাসন না করে আল্লাহ লোকজনদের মধ্যে দলাদলি সৃষ্টি করায়ে দিয়ে থাকেন যারা পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ-বিগ্রহ শুরু করে থাকে (ইবন মাজায়, কিতাব আল-ফিটান, ৪০১৯, ২/১৩৩২)।পৃথিবীর যে কোন দেশের প্রেক্ষআপটে হাদিসটা ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশে তো যা-ই। এই পাচটা কারণের পরিসংখ্যান প্রতিদিনের খবরের কাগজে্‌ই পাওয়া যায়।   

অন্য একটা হাদিসে আছে যে গণিমতের মাল থেকে ও সরকারী কোষাগার থেকে চুরি শুরু করলে আল্লাহ তায়ালা লোকজনের অন্তরে ভয়ের সঞ্চার করায়ে দিয়ে থাকেন। অবৈধ যৌনকর্মের ব্যাপক বিস্তুতি অনেক জীবন নাশের কারন। ওজনে কম দেওয়া শুরু করলে রেযেক কমে যাবে। যে জাতি ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করে না তাদের মাঝে অনেক রক্ত ঝরে থাকে। প্রতিঙ্গা ভংগকারীর জাতির শত্রকে আল্লাহ অধিক ক্ষমতাধারী করে থাকেন (ইমাম মালেক, আল-মুতওয়াত্তা, কিতাব আল-জিহাদ, ২১.১৩.২৬)। খবরের কাগজাই এইসব অপরাধের সাক্ষী হয়ে আছে।  

আমাদের ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতাহীন রাজনীতিকরা আর তার সংগের নির্বাহীরা যদি ধর্মের শিক্ষার গুরুত্ব দিতেন আল্লাহ রহমতে দেশের চেহারা অনেক ভাল হতো। সরকাররের মধ্যে বামেরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ইসলামের দরদ আর জীবনের ইসলামী শিক্ষার প্রতিফলন তাদের জীবনে দেখা যায় না। জনৈক প্রতিমন্ত্রীর মুখে শোনা গিয়েছিল যে আল্লাহ যদি বিচার করতে পারে মানুষ কেন পারবে না! এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা শুনতেও গা কাঁপে। যাহোক সহচরদের দ্বারাই সহচরদের জানা যায়।   

 

ডঃ এমএমআদেল

অধ্যাপক-পদার্থ, পরিবেশ, ও জ্যোতির্বিজ্ঞান

আরকানছাছ বিশ্ববিদ্যালয়

পাইন ব্লাফ,যুক্তরাষ্ট্র

E MailThis e-mail address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it

Comments (0)Add Comment

Write comment
smaller | bigger

busy

Highlights Archive

More Highlights

Science and Technology

Entertainment

Travel

Life Style & Fashion

Health