TueSep262017

বাংলাদেশে ইসলাম এখন বিপর্যস্থ

  • PDF
Change font size:

 


ড. সুলতান আহমদ,USA


ইসলাম ধর্মের রং, রূপ বা গন্ধ নাই। একেবারেই ১০০% খাঁটি। অথচ দেশের দিক থেকে বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, ইসলামের তিনটি ভিন্ন রূপ: রাজনৈতিক, মাদ্রাসায় শিক্ষিত ও জনগনের ইসলাম। ধর্ম নিয়ে চলছে খেলা, যদিও ধর্ম কোন খেলার সামগ্রী নয়। এটা বিশ্বাস আর জীবনযাপনের একটি বিশেষ পদ্ধতি। ধর্মের বিধি-নিষেধগুলোকে জেনে বুঝে সাধ্যমত পালনের চেষ্টা সবসময় সচেষ্ট থাকতে হবে।

রাজনৈতিক বিবেচনায় ইসলাম:

মৃত দুই জন শেখ মুজিবর রহমান ও জিয়াউর রহমান এখন আল্লাহর বিচারাধীন আছেন। তাই তাঁদের স¤¦ন্ধে কিছু বলবনা।
এরশাদের বিবেচনা:

এরশাদ ক্ষমতা দখলের ও রাজনৈতিক দল গঠনের পর, সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম হিসাবে সংযোজন করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ইসলামের অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ভোটের রাজনীতিতে বাকি সবাইকে টেক্কা দিয়ে চিরদিনের মত ক্ষমতায় থাকা। কিন্তু ১৯৯০ সালে মুসলামানরাই তার সে ¯¦প্ন চুরমার করে দিল।

এই এরশাদকেই নাকি খাজাবাবা ¯¦প্নে তার বন্ধ্যা স্ত্রীর গর্ভে এক সন্তানের জম্মের সুখবর দিয়েছিলেন। তারপরে ইতিহাস ৫০ উর্ধ বয়সের উপরের দেশবাসির জানা আছে। অপরদিকে ডিজিএফই সহ সকল গোয়েন্দা সংস্থার সপ্তাহব্যাপি রেকি ও সকল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর হঠাৎ শুত্র“বার দিন জুমআর নামাজে গিয়ে হাজির হল। তারপর ঘোষনা দিল - গতরাতে সপ্ন দেখেছি আপনাদের সাথে আজ নামাজ পড়ছি। পাঠকবৃন্দ, এবার চিন্তা করুন, বদমাইশটা কত বড় ভন্ড। রাজশাহীতে মিছিলে ট্রাক উঠিয়ে মানুষ হত্যা, দুর্নীতির দায়ে জেল খাটা - এগুলোও ¯¦প্নপ্রদত্ত কিনা, তা আর সে বলেনি। এই হল এরশাদমার্কা ইসলামেবর কিছু নমুনা।


খালেদার বিবেচনা:

মরহুম জিয়াউর রহমানের ক্ষমতাকালে বিশেষ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া বেগম জিয়াকে (শালীনতা বজায় রেখে) কী বাইরে দেখেছেন? না। জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারপার্সন হওয়ার পর থেকেই তিনি বিধবাদের যে রকম শালীনতা বজায় রেখে চলা ইসলামের বিধান বয়েছে, তা লঙ্ঘন করে দৃষ্টিকটু অশালীনতার আশ্রয় নিয়ে বছরের পর বছর জনসভায় ভাষন দিয়ে বেড়াচ্ছেন। ফালু তার মহরম (?) না হওয়া সতেবও, হজজ ও ওমরাহ পালনকালে ফালুকে তার হুইল চেয়ার ঠেলার একাধিক ছবি টেলিভিশনের বার বার দেখা গেছে।
খালেদা জিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা ভাই নামক জঙ্গীগোষ্ঠিকে দিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, চট্রগ্রামে সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে অস্ত্রের চোরাচালান, ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলায় মানুষ হত্যা - আমরা যে ইসলাম পালন করি- তা সমর্থন করে না। এই হল খালেদা মার্কা ইসলামের কিছু নমুনা।

শেখ হাসিনার বিবেচনা:

আগে দেখতাম শেখ হাসিনা ইসলামের অবস্থান ব্যক্ত করতে গিয়ে জনসভায় প্রায়ই কোরআনের - লাকুমদি নুকুম অল ইয়াদিন - এই আয়াতটি আওড়াতেন। এ আয়াতটি কোন্ পরিপ্রেক্ষিতে নাজিল হয়েছিল তা না জেনেই বলতেন যে, এর অর্থ হল: তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম আর আমাদের জন্য আমাদের ধর্ম। প্রকৃতপক্ষে এ আয়াতটির অর্থ হল - তোমরা তোমাদের প্রতিফল, আর আমি আমার প্রতিফল প্রাপ্ত হইব (সূত্র: হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবি রচিত কোরআনের অর্থ, বাংলা অনুবাদ: মাওলানা নুরুর রহমান, এমদাদিয়া লাইব্রেরী, ঢাকা)।
এখন তিনি আওড়ান - ওয়াতুএজ্জো মানতাসায়ু ওতুয়াতুজিল্লু মানতাসায়ু - যার অর্থ তার মতে, ক্ষমতা দেয়ার মালিক আল্লাহ্। তিনি যে আয়াতটি এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে চেয়েছেন, তা হল - তঃুতিল মুলকা মানতাসায়ু, ওয়া তানজিয়ুল মুলকা মিমমানতাসায়ু, যার অর্থ: রাজ্য যাহাকে ইচ্ছা প্রদান করেন বং যাহা হইতে ইচ্ছা করেন রাজ্য ছিনাইয়া লন (সূূত্র:ঐ)। , তাহলে সংবিধান সংশোধন করে তত্তবধায়ক সরকার বাতিল করে দেশকে এক সহিংস পথে ঠেলে দিলেন কেন ? আপনি আরও কি কি ইবাদত করেন তাও জনসমক্ষে বলে বেড়ান। এটা যে রিয়া (লোক দেখানো) তা কি বুঝেন? আর রিয়াও শিরকের অন্তর্ভূূক্ত, তা জানেন? এই হল হাসিনা মার্কা ইসলামের কিছু নমুনা।


হাসিনা-খালেদা গংদের আমার কিছু প্রশ্ন। ১৯৯১ হতে ১৯৯৬ এবং ২০০২ হতে ২০০৬ পর্যন্ত সময়ে বিরোধী দলের নেতা হিসাবে হরতাল ও অবরোধে হত্যা, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা সহ কত কোটি টাকার যানবাহন ভাংচুরসহ কতলোককে বাসে গান পাউডার ও আগুন দিয়ে হত্যা, গাড়ি ভাংচুর আর জ্বালাও - পোড়াও করে কত কোটি টাকার স¤পদ ধংস করেছেন, তার হিসেব দেবেন কি? একই ভাবে, ১৯৯৭ তে ২০০১ এবং ২০০৯ হতে আজ পর্যন্ত বিরোধী দলের নেতা হিসাবে হরতাল ও অবরোধের নামে কতলোককে হত্যা, কতলোককে গাড়িতে আগুন দিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছেন আর কত যানবাহন ভেঙ্গে কত কোটি টকার স¤পদ ধংস করেছেন, তার হিসেব দেবেন কি? আমরা যে ইসলাম অনুসরন করি, সেখানে এই সব কাজকে শয়তানের কাজ বলা হয়। আর দিনের পর দিন হরতাল ডেকে জনগনকে যে কষ্ট দিচ্ছে, সে কথা আর বলে কি লাভ । কেন এ কাজ গুলো করেছেন, শুধু ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে, তা নয় কি? আপনারা যে ইসলামের কথা পাপ মুখে নেন, সেই ইসলামকে ধিক! শত ধিক!

এবার আসা যাক ওলামা-মাশায়েখদের দিকে। পাঠকবৃন্দ লক্ষ্য করলে দেখবেন, আওয়ামী ওলামা লীগ, জাতীয়তাবাদী ওলামা দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলেরও ওলামা শাখা আছে। হেফাজতে ইসলামের লং মার্চ ও মহাসম্মেলন কিছুটা শান্তিপূর্ন হয়েছে বলে মনে করা যায়। তাদের ১৩ দফা দাবি পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, এই দাবিগুলো মানা কোন গনতান্ত্রিক সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয়। সেটা দাবিওয়ালারাও ভালই জানে। প্রশ্ন হল, তা হলে এ দাবিগুলোর মানে কি? লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, এই আদোলনের পূর্বে শুধু ধর্ম অবমাননার জন্য ব্লগারদের শাস্তিই ছিল একমাত্র দাবি। অন্য দাবিগুলো পরে রাজনৈতিক চাপে সংযোজন করা হয়েছিল বলে আমি মনে করি।

যে ব্লগারদের বিরুদ্ধে হেফাজতের এত আয়োজন, আমি আশা করেছিলাম এই মহাসমাবেশের আয়োজকরা ব্লগারদের নাম ধরে কোন ব্লগার ধর্ম ও মহানবী (সঃ) স¤পর্কে অবমাননাকর কি লিখেছে, তার বিস্তারিত বিবরন দিয়ে শাস্তি দাবি করবে। তাদের হোমওয়ার্ক না করে বক্তব্য দেয়ায় আমি হতাশ হয়েছি। তাই মনে করা ¯¦াভাবিক যে, তারা এ সব পড়েনি, শুধু শোনার ভিত্তিতে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করাই ছিল এই আয়োজন। মুসলমানদের মধ্যে কিছু সংখ্যক ছিল, যারা লোক দেখাতে ইসলাম ধর্মের বিধি বিধান মেনে চলত, আর পশ্চাতে ইসলামের শুধু সমালোচনা নয়, বিরোধীতাও করত এবং বিধর্মীদেরকে সাহায্য করত। কোরআনে মজিদের বহু জায়গায় এদেরকে বলা হয়েছে মোনাফেক। এদের কঠিনতম শাস্তির হুঁশিয়ারীও দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে, মহাখালীতে জনাব শাহরিয়ার কবির ও মুনতাসির মামুনের উপর হামলা চালিয়েছে। টিভির মহিলা সাংবাদিকদেরকে শালীনভাবে কাপড়চোপড় পরার পরও গালিগালাজ ও নির্যাতন করেছে। তাদের অপরাধ, মহিলা হয়েও পুরুষের সভায় কেন এসেছে। তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে চাই, যে দলের নেতারা সংহতি প্রকাশ করতে মঞ্চে বসেছে, তাদের গোলাাপী বেগম যে অশালীন ও দৃষ্টিকটু কাপড়চোপড় পরে জনসভায় ভাষন দেয়, তাই জায়েজ মুফতি-মাওলানা সাহেরা - ধিক আপনাদের প্রচারিত ইসলামের প্রতি।

সর্বত্র ঘুুষ, দুর্নীতি, ওজন কম দেয়া - ইসলামের এই সব নির্দেশ অবমাননার প্রতিবাদেতো ওলামা-মাশায়েখদের কোন লংমার্চ, মহাসমাবেশ বা প্রতিবাদ কখনও দেখলাম না। তার মানে কি এই যে, আপনারা যে ইসলাম প্রচার করেন, সেখানে এগুলো জায়েজ - তাই কি? আমারতো মনে হয়, আপনারা গরীব মুসলমানদের প্রাপ্য যাকাত আর কোরবানির টাকা নিজ¯¦ একটি ইসলামিকবলয় তৈরি করে চলছেন? যার সঙ্গে পবিত্র ইসলাম ধর্মের কোন স¤পর্ক নেই।
আবু সুফিয়ান যিনি শুধু একজন নাস্তিকই ছিলেন না, বরঞ্চ মক্কা বিজয়ের আগ পর্যন্ত সব যুদ্ধেই বিদ্রোহীদের নেতৃতব দিয়েছিল, মক্কা বিজয়ের পর নবী করিম (সঃ) ঘোষনা দিয়েছিলেন, যারা আবু সুফিয়ানের ঘরে যারা আশ্রয় নেবে, তারা নিরাপদ। তায়েফ শহরে যখন নাস্তিকরা নবীজির প্রতি ডিল ও পাথর ছুড়তে তাদের ছেলেমেয়েদের উৎসাহিত করেছিল এবং নবীজির পায়ের জুতার ভিতর রক্ত জমে তা খোলা কঠিন হয়ে পড়েছিল, তখনও নবীজি তাদেরকে অভিশাপ না দিয়ে কি দেয়া করেঝিল - তা জানেন কি? জানলে পালন ও ছাত্রছাত্রীদেরকে বলেন কি? আপনাদের আচরন দেখলে তাতো মনে হয় না। কে নাস্তিক আর কে ঈমানদার, সেটা ঐ ব্যক্তি ও আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।

আপনারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে ভন্ডামির আড়ালে নিজেরে পার্থিব ¯¦ার্থ আর অন্যদের খুশি করার এক ভয়ংকর খেলায় মেতে উঠেছেন। আপনারা বলেছেন - ১৩ দফা মেনেই ক্ষমতায় থাকতে বা আসতে হবে। মানে দাঁড়ায় - কোরআনের সুরা আল ইমরানের ২৬ ন¤¦র আয়াতকে - তঃুতিল মুলকা মানতাসায়ু, ওয়া তানজিয়ুল মুলকা মিমমানতাসায়ু, যার অর্থ: রাজ্য যাহাকে ইচ্ছা প্রদান করেন বং যাহা হইতে ইচ্ছা করেন রাজ্য ছিনাইয়া লন (সূূত্র:ঐ) চ্যালেঞ্জ করছেন? যেখানে আল্লাহ ও বারাকুতাআলা বলেছেন - যে আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছেন, তাতে আপনারাও জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে যাবেন। তাই বলছি - সাবধান হউন, আল্লাহ্র শাস্তিকে ভয় করুন, তওবা করে খাঁটি ঈমানদার চেষ্টা করুন। আল্লাম আহমদ শফি সাহেব, আপনার মত ইসলামের পন্ডিতের সঙ্গে সাধারন শিক্ষিত আমি ইসলাম নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্ক করতে ইনশাআল্লাহ্ প্রস্তুত। যদি রাজি থাকেন, তবে উপরোল্লেখিত বিষয়সমূহের লিখিত জবাব দেবেন আশা করি।

আর সরকারও যারা চাঁদে সাঈদীকে দেখা গেছে প্রচার করে দেশব্যাপি তান্ডব চালালো এবং কাবা শরীফের গিলাপ নিয়ে কাবা প্রাঙ্গনে সৌদি আরবে সাঈদীর মুক্তির দাবিতে মিছিল করল বলে প্রচার করেছিল তাদেরকে গ্রেপ্তার না করে, হেফাজতকে খুশি করার জন্য ৪ জন ব্লগারকে শুধু আটক নয়, রিমান্ডে পর্যন্ত নিয়েছে। কি সুন্দর মুক্তিযুদ্ধ চেতনার (ভন্ডামি) সরকার। তাইত হেফাজতে ইসলাম (!) তার প্রতিদানও দিয়েছে, সরকারকে নাস্তিক উপাধি দিয়ে।

এদেশের সাধারন মানুষ রাজনৈতিক ইসলাম বা ওলামা-মাশায়েখদের ভন্ডামির ইসলামের সঙ্গে নেই। তারা নবী করিম (সঃ) যে ইসলাম প্রচার করেছেন, তা অনুসরনে সাধ্যমত চেষ্টা করে আলহামদুল্লিাহ্।

অরাজনৈতিক ২৮টি সংগঠন ৬ই এপ্রিল জনগনের সমর্থনে শান্তিপূর্ন হরতাল পালনের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের দুরভিসন্ধিমূলক লংমার্চকে প্রত্যাখ্যান করেছে। শুধু তাই নয়, জনগনের সমর্থন থাকলে জ্বালাও-পোড়াও, বোমাবাজি, মানুষ হত্যার মত অপরাধ, ধংসাÍকমূলক ও জনবিরোধী কাজ ছাড়াও যে শান্তিপূর্ন হরতাল পালন করা যায়, তা ইতর রাজনীতিবিদদেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

জনাব শাহরিয়র কবির, মুনতাসির মামুন, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, আপনারা জ্ঞানি এবং দেশকে প্রচন্ডভাবে ভালবাসেন। তাই ধর্মীয় মতাদর্শে ভিন্মতা থাকলেও আপনাদেরকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আপনাদের গায়ে আওয়ামী লীগের চিরস্থায়ী মোহর পড়ে গেছে। অনুগ্রহ করে বলবেন কি, বর্তমান আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার কাছে কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কিছু অবশিষ্ট আছে? আপনাদেরকে হেফাজতে ইসলাম মারল, নাকি জাময়াত-শিবির মারল, তাতে তাদের কিছু আসে যায় না। তারা আপনাদেরকে ভোট ব্যাংকা মনে করে। তাদেরতো ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ইসলামী ওলামা-মাশায়েখদের সমর্থন প্রয়োজন। তাই নয় কি?

 

ড. সুলতান আহমদ,USA

 

E Mail :  This e-mail address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it

Comments (0)Add Comment

Write comment
smaller | bigger

busy

Highlights Archive

More Highlights

Science and Technology

Entertainment

Travel

Life Style & Fashion

Health